হিজামা বা Cupping Therapy আজকাল বেশ জনপ্রিয় একটি প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতি হয়ে উঠেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এই চিকিৎসা কি সবার জন্য উপযুক্ত? কারা হিজামা করাতে পারবেন এবং কারা কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে করাবেন বা একেবারে এড়িয়ে চলবেন, সেটা জানা জরুরি।
এই পোস্টে আমরা জানব কে হিজামা করাতে পারেন, কার জন্য উপকারী, এবং হিজামার আগে-পরে কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
✅ কারা হিজামা করাতে পারবেন?
নিচের ক্যাটাগরির মানুষদের জন্য হিজামা করানো সাধারণত নিরাপদ এবং উপকারী ধরা হয়:
১. ব্যথায় ভোগা ব্যক্তি:
যারা মাথাব্যথা, পিঠ ব্যথা, জয়েন্ট পেইন, বা মাইগ্রেনে ভুগছেন।
২. উচ্চ রক্তচাপ ও রক্ত সঞ্চালন সমস্যায় আক্রান্তরা:
হিজামা রক্ত চলাচল উন্নত করে, ফলে এটি উপকারী হতে পারে।
৩. মানসিক চাপ ও ঘুমের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তি:
হিজামা স্ট্রেস কমায় এবং ঘুমের গুণগত মান বাড়ায়।
৪. হজমের সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা ব্যক্তি:
হিজামা হজম ও লিভার ফাংশন উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
৫. খেলোয়াড় বা শারীরিক শ্রমজীবীরা:
পেশী ব্যথা ও ক্লান্তি দূর করতে হিজামা বেশ কার্যকর।
৬. নারীদের হরমোন ভারসাম্যজনিত সমস্যা থাকলে:
মাসিক অনিয়ম, PCOS, বা চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলে হিজামা উপকারী হতে পারে।
⚠️ কারা হিজামা করাবেন না বা সতর্ক হবেন?
যদিও হিজামা অনেকের জন্য উপকারী, কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এটি এড়িয়ে চলা বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত:
১. রক্তস্বল্পতা (এনিমিয়া) বা হিমোগ্লোবিন খুব কম থাকলে
এ ধরনের ব্যক্তিরা হিজামা করলে দুর্বলতা আরও বেড়ে যেতে পারে।
২. গর্ভবতী নারীরা (বিশেষ করে প্রথম ৩ মাস)
হিজামা গর্ভধারণের সময় ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
৩. ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে (যাদের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে নেই)
ক্ষত শুকাতে দেরি হতে পারে, তাই সতর্কতা জরুরি।
৪. রক্তপাতজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি (যেমন হেমোফিলিয়া)
হিজামা তাদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
৫. গুরুতর অসুস্থ বা সদ্য অপারেশন করা রোগী
এই অবস্থায় হিজামা করানো ঝুঁকিপূর্ণ।
৬. শিশু ও খুব বয়স্ক ব্যক্তি
এই দুই শ্রেণির ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের পরামর্শ ছাড়া হিজামা করানো উচিত নয়।
📝 হিজামার আগে-পরে করণীয় সতর্কতা
হিজামার আগে:
- খালি পেটে করানো ভালো (হালকা খাবার নিলে অন্তত ২ ঘণ্টা গ্যাপ দিন)
- ভাল ঘুমিয়ে আসুন
- প্রচুর পানি পান করুন
হিজামার পরে:
- ২৪ ঘণ্টা গোসল/জিম/শরীরচর্চা এড়িয়ে চলুন
- ক্ষতস্থানে পানি ও কেমিক্যাল ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
- প্রচুর পানি ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন
- শরীর বিশ্রামে রাখুন